গুরুজনে ভক্তি এবং ভক্তির উপায় (পাঠ - ২ ও ৩)

হিন্দুধর্মের স্বরূপ ও বিশ্বাস - হিন্দুধর্ম শিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

377

গুরুজনে ভক্তি
বয়োজ্যেষ্ঠরা আমাদের গুরুজন। মা-বাবা, পিতামহ, মাতামহ, কাকা-কাকি, মামা-মামি, বড়ভাই ও বোনসহ অনেকেই আমাদের পরিবারের গুরুজন। পরিবারে আত্মীয়তার বন্ধনের মাধ্যমেও অনেক গুরুজন রয়েছেন। আবার শিক্ষকগণও আমাদের গুরুজন। যিনি দীক্ষাদান করেন তিনিও আমাদের গুরুজন। তাহলে আমাদের জীবন গঠনে মাতা, পিতা, শিক্ষকসহ বিভিন্ন গুরুজনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এসকল গুরুজনের প্রতি শ্রদ্ধাভরে ভালোবাসা প্রদর্শনের নামই ভক্তি। ভক্তিতে থাকে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং পুণ্য। ভক্তির মাধ্যমেই আমরা লাভ করি পুণ্য এবং মুক্তি।

গুরুজনে ভক্তির উপায়
মাতা ও পিতা আমাদের পরম গুরু। মা-বাবার স্থান আমাদের জীবনে সবার উপরে। এই পৃথিবীর আলো যিনি দেখিয়েছেন তিনি আমাদের মা। মায়ের সাথে রয়েছে আমাদের নাড়ির বন্ধন। মা আমাদের সুখের সাথি আবার দুঃখেরও ভাগীদার। আমাদের সৎ ও সুন্দর জীবন গঠনে মায়ের ভূমিকা অপরিসীম। শিশুকাল হতে মা পরমযত্নে আমাদের বড় করে তোলেন। বড় হলেও মায়ের নিকট আমরা সর্বদাই শিশু। আমরা অনেকেই মাতৃপূজা করি। কোনো মঙ্গলযাত্রায় আমরা সর্বাগ্রে মাকে প্রণাম করি। আমাদের ধর্মে মায়ের স্থান সবার উপরে। মা সন্তানের ভক্তিতে সন্তুষ্ট থাকলে দেবতারাও তুষ্ট হন। তাই আমরা মায়ের কাজে সাহায্য করব। মায়ের আদেশ, নির্দেশ কর্তব্যজ্ঞানে মেনে চলব। কোনো কারণে মায়ের অন্তর কষ্ট পেলে মায়ের প্রতি ভক্তি বাধাপ্রাপ্ত হয়। পিতাও মায়ের মতো আমাদের আদর্শ জীবন গঠনে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে থাকেন। পিতা সম্পর্কে আমাদের ধর্মে শ্লোক রয়েছে। যেমন-

পিতা স্বর্গঃ পিতা ধর্মঃ পিতাহি পরমন্তপঃ।
পিতরি প্রীতিমাপন্নে প্রিয়ন্তে সর্বদেবতাঃ

অর্থাৎ পিতা স্বর্গ, পিতা ধর্ম পিতাই পরম তপস্যা। পিতা প্রীত হলে সকল দেবতাই তুষ্ট হন।
শিক্ষকগণ আমাদের শিক্ষাগুরু। শিক্ষক আমাদের জীবন চলার পথ প্রদর্শক। জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞানের আলো শিক্ষকগণই জ্বালিয়ে রাখেন। তাদের আদেশ, নিষেধ মান্য করা আমাদের কর্তব্য। আবার দীক্ষাগুরু ও আমাদের গুরুজন। আমাদের জীবন চলার পথে ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যা তারা দিয়ে থাকেন। এভাবে আমাদের জীবন চলার পথে সকল গুরুজনের প্রভাব রয়েছে। তাই আমরা সকল গুরুজনকেই মনে প্রাণে শ্রদ্ধা ও ভক্তি করি।

একক কাজ: তোমার গুরুজন কারা এবং তাদেরকে তুমি কীভাবে ভক্তি কর?

এ প্রসঙ্গে মাতৃভক্ত গণেশ ও কার্তিকের গল্পটি স্মরণ করা যায়।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...